মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

গ্রাম আদালত

 


গ্রাম আদালত গঠনঃ

ইউনিয়ন পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ অনুসারে, প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত পরিচালিত হবে। গ্রাম আদালত পরিচালনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা নিম্নে দেওয়া হলো।

গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য ঃ

১. কম সময়ে, অল্প খরচে স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা;

২. দরিদ্র, অনগ্রসর, নারী, সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ওবিচার প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা;

৩. বিবদমান পক্ষসমূহের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা;

৪. বিরোধ নিষ্পত্তির পর বিরোধীয় পক্ষসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান সৃষ্টি;

৫. স্থায়ীভাবে বিরোধ নিরসন;

৬. উচ্চ আদালতে মামলার চাপ কমানো ও

৭. সামাজিক ন্যায্যতা ও সুশাসন সৃষ্টি।

গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলা ঃ

(১) ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দেওয়ানি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন গ্রাম আদালত আইনের তফসিলের প্রম অঙ্কে বর্ণিত বিষয়াবলি সম্পর্কিত ফৌজদারি মামলা এবং দ্বিতীয়অঙ্কে বর্ণিত বিষয়াবলি সম্পর্কিত দেওয়ানি মামলা, ভিনড়ব রকম বিধান না থাকলে, গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য হবে এবং কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ কোনো মামলা বা মোকাদ্দমার বিচারের এখতিয়ার থাকবে না।

(২) গ্রাম আদালত কর্তৃক তফসিলের প্রম অঙ্কে বর্ণিত কোনো অপরাধের সাথে কোনো মামলা বিচার্য হবে না যদি উক্ত মামলায় আমলযোগ্য কোনো অপরাধের দায়ে কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়ে ইতোপূর্বে গ্রাম আদালত কর্তৃক দন্ড প্রাপ্ত হয়ে থাকেন, যদি-

ক) উক্ত মামলায় কোনো নাবালকের স্বার্থ জড়িত থাকে;

খ) বিবাদের পক্ষগণের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে সালিশের বা বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান থাকে;

গ) সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কর্তব্য পালনরত কোনো সরকারি কর্মচারী উক্ত বিবাদের কোনো পক্ষ হয়।

 (৩) যে স্থাবর সম্পত্তির দখল অর্পণের জন্য গ্রাম আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয়েছে, ঐ স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বা এর দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মোকাদ্দমা বা কার্যধারার ক্ষেত্রে (১)-এর বিধানবলি প্রযোজ্য হবে না।

গ্রাম আদালত গঠনের আবেদন ঃ

(১) যে ক্ষেত্রে এ আইনের অধীন কোনো মামলা গা্র ম আদালত কতর্কৃ বিচারযোগ্য হয় সেক্ষেত্রে বিরোধের যে কোনো পক্ষ উক্ত মামলা বিচারের নিমিত্ত গ্রাম আদালত গঠনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিখিত কারণ দর্শিয়ে উক্ত আবেদনটি নাকচ না করলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে গ্রাম আদালত গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

(২) উক্ত আইনের অধীন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশের বিরুদ্ধে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে রিভিশন করতে পারবেন।

আবেদনের ফিস ঃ

তফসিলের প্রম ভাগের সাথে সম্পর্কিত হলে দুই টাকা এবং দ্বিতীয় ভাগের সাথে সম্পর্কিত হলে আবেদনপত্রের সাথে চার টাকা ফিস জমা দিতে হবে।

নাকচ আবেদন না-মঞ্জুরের আদেশসহ আবেদনকারীকে ফেরত প্রদান ঃ

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক যেক্ষেত্রে আবেদন নাকচ হয় সেক্ষেত্রে তা উক্ত নামঞ্জুরের আদেশ সমেত আবেদনকারীর নিকট ফেরত দিতে হবে।

আবেদন না-মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন/আপিল ঃ

আবেদন না-মঞ্জুর হওয়ার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে পুন:বিচারের জন্য তা যথাযথ এখতিয়ারসম্পনড়ব সহকারী জজের নিকট দাখিল করতে হবে।

আবেদনে কী কী তথ্য থাকতে হবে?

আবেদনে নিম্নলিখিত তথ্য ও বিবরণ থাকতে হবে:

১. যে ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করা হয়েছে তার নাম ও ঠিকানা;

২. আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয়;

৩. প্রতিবাদীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয়;

৪. যে ইউনিয়নে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে অথবা মামলার কারণ সৃষ্টি হয়েছে তার নাম;

৫. ঘটনা সৃষ্টির কারণ, ঘটনার স্থান, ইউনিয়নের নাম, ঘটনার তারিখ ও সময়;

৬. অভিযোগ বা দাবির সংক্ষিপ্ত বিবরণ, প্রকৃতি ও ক্ষতির পরিমাণ;

৭. প্রার্থিত প্রতিকার।

আবেদনপত্র পাবার পর চেয়ারম্যান কী করবেন?

আবেদনপত্রটি পাবার পর ইউপি চেয়ারম্যান তা পরীক্ষা করে গ্রহণ করবেন। আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট তারিখে প্রতিবাদীকে হাজির হতে সমন দেবেন এবং বাদীকে হাজির হতে নির্দেশ দেবেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। আবেদনটি অসম্পূর্ণ হলে অর্থাৎ প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলে অথবা এখতিয়ার বহির্ভূত হলে তিনি তা নাকচ করতে পারবেন। তবে কী কারণে আবেদনটি নাকচ করা হলো তা অবশ্যই আবেদনপত্রের উপর লিখতে হবে।

প্রতিবাদী দাবি বা বিবাদ স্বীকার করলে গ্রাম আদালত গঠন করা হবে না ঃ

সমন অনুযায়ী অথবা প্রকারান্তরে প্রতিবাদী হাজির হলে এবং দাবি বা বিবাদ স্বীকার করলে এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উক্ত দাবি পূরণ করলে গ্রাম-আদালত গঠন করা হবে না।

 

কী কী কারণে আবেদন নাকচ করা যাবে?

১. আবেদনের ফিস জমা না দিলে;

২. এখতিয়ার বহির্ভূত হলে;

৩. অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবেদন হলে;

৪. আবেদন অসম্পূর্ণ হলে অর্থাৎ আবেদনকারী, প্রতিবাদী, সাক্ষীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয় না থাকলে;

৫. ঘটনা, ঘটনা সৃষ্টির কারণ, ঘটনার স্থান-সময়-তারিখ, ক্ষতির পরিমাণ, প্রার্থিত প্রতিকার, ইত্যাদি উল্লেখ না থাকলে;

৬. ব্যক্তি আদালত গ্রাহ্য কারণে পূর্বে দোষী সাব্যস্ত হলে;

৭. নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থি হলে;

৮. বিরোধটি নিয়ে সালিশির চুক্তি হলে;

৯. সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কর্তব্য পালনরত কোনো সরকারি কর্মচারী যদি দেওয়ানি মামলার কোনো পক্ষ হয়।

গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, ইত্যাদিঃ

১. যে ইউনিয়নে অপরাধ সংগঠিত হবে বা মামলার কারণ উদ্ভব হবে, বিবাদের পক্ষগণ সাধারণত সেই ইউনিয়নের বাসিন্দা হলে, সে ইউনিয়নে গ্রাম আদালত গঠিত হবে এবং অনুরূপ মামলার বিচারের এখতিয়ার গ্রাম আদালতের থাকবে।

২. যে ইউনিয়নে অপরাধ সংঘটিত হবে বা মামলার কারণ উদ্ভব হবে, বিবাদের এক পক্ষ সেই ইউনিয়নের বাসিন্দা হলে এবং অপর পক্ষ ভিনড়ব ইউনিয়নের বাসিন্দা হলে, যে ইউনিয়নের মধ্যে অপরাধ সংঘটিত হবে বা মামলার কারণ উদ্ভব হবে, সেই ইউনিয়নে গ্রাম আদালত গঠিত হবে; তবে পক্ষগণ ইচ্ছা করলে নিজ ইউনিয়ন হতে প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারবে।

গ্রাম আদালতের ক্ষমতাঃ

এ আইনে ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকলে, গ্রাম আদালত আইন ২০০৬-এর তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত ফৌজদারি অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে কেবলমাত্র অনধিক পঁচিশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করতে পারবে। তফসিলের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত দেওয়ানি বিষয়াবলির সাথে সম্পর্কিত কোনো মামলায় অনুরূপ বিষয়ে তফসিলে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থ প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করতে বা সম্পত্তির প্রকৃত মালিককে সম্পত্তি বা এর দখল প্রত্যর্পণের জন্য আদেশ প্রদান করতে পারবে।

 


Share with :

Facebook Twitter